খুলনা প্রতিনিধি:
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে কলেজসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে কলেজটি সরকারিকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
কলেজসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঐতিহাসিক সেনহাটি গ্রামে ১৯৯২ সালে আলহাজ্ব সারোয়ার খানের আর্থিক সহযোগিতা ও এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় ৪ একর ৭১ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে এর শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে পাঠদান চলছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। কলেজে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোও সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে রয়েছে চারতলা আইসিটি ভবন, তিনতলা অনার্স ভবন, বিজ্ঞান ও কারিগরি ভবন, প্রশাসনিক ভবন, গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব। এ ছাড়া খেলার মাঠ, শহীদ মিনার ও মসজিদ রয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বিএনসিসি, রোভার, রেঞ্জার ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটও চালু আছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলও সন্তোষজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে অনেকে মেডিকেল, প্রকৌশল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহেও কলেজটির সাফল্য রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জন করেছে কলেজটি। একাধিক শিক্ষক পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একজন শিক্ষক পিএইচডি গবেষণায় রয়েছেন।
তবে শিক্ষা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি সরকারিকরণের দাবি পূরণ হয়নি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দাবিতে অতীতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিঘলিয়া উপজেলায় বড় কোনো সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যত্র যেতে হয়।
কলেজসংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারিকরণের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে। অতীতে এ নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি নেওয়া হলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরে বিষয়টি সামনে রেখে সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল কলেজটি সরকারিকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ২৪ জানুয়ারি খুলনা-৪ আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আজিজুল বারী হেলাল। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের ইশতেহারে আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের অঙ্গীকার রাখা হয়। নির্বাচনের পর ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরকারিকরণ হলে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারিকরণের উদ্যোগটি দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে। এতে দিঘলিয়ার দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

