আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম পাঞ্চবোল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে মার্কিন নির্বাচন, জ্বালানি বাজার এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে ইরান, চীন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ কৌশল।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার ভাষায়, ইরান নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাত চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এড়াতেই আলোচনার পথ খুঁজছে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি বাজার নিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাত না হলে বিশ্ববাজারে পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তার মতে, ইরানও এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চায়।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশটির কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি যথেষ্ট বিশৃঙ্খল এবং তা উন্নয়নশীল দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনীয়। এ পরিস্থিতিতে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ কার্যকরের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
চীনকে ঘিরে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ভবিষ্যৎনির্ভর খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোনোভাবেই হারানো যাবে না। তার মতে, এই দুটি খাত আগামী দিনের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তির নিয়ামক হবে, তাই চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

