খুলনা ব্যুরো:
দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও প্রশংসনীয় কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগের ৩১ কর্মকর্তা ও সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় কেএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা নগরীর সড়কে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সঙ্গে কথা বলার সময় পুলিশ সদস্যদের ভদ্র, সংযত ও মানবিক হতে হবে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্বলতা দেখানো যাবে না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের সদস্যরাও একসময় সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং চাকরি শেষে আবারও সাধারণ মানুষের কাতারে ফিরবেন। তাই দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সমস্যাকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক করার ক্ষেত্রে ভালো আচরণের কোনো বিকল্প নেই। সব সমস্যার সমাধান পুলিশের পক্ষে সম্ভব না হলেও মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, আন্তরিকভাবে কথা বলা এবং সাধ্যের মধ্যে সহযোগিতা করা সম্ভব। আর এই মানবিক আচরণই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কেএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে দায়িত্ব পালনে বিশেষ দক্ষতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য ট্রাফিক বিভাগের মোট ৩১ সদস্যকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন), পাঁচজন সার্জেন্ট/টিএসআই, পাঁচজন এটিএসআই এবং ২০ জন কনস্টেবল রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার জানান, দায়িত্বে ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ও পুরস্কারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলামসহ ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

