খুলনা ব্যুরো:
খুলনা বিভাগজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকিতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৮টি টিম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের বাজারে পরিচালিত এসব অভিযানে চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার ও মূল্য তালিকা যাচাই করা হয়।
অভিযানে আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর রূপসা থানার তিলক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে বাগেরহাট ফার্মেসিকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে খোকন ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়া: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হাতিয়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় রঞ্জু ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করায় মোল্লা ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট আদায় করা হয় ৮ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা: সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে কলারোয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে রনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৪ হাজার টাকা এবং মা হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মাগুরা: সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে মেসার্স আব্দুল্লাহ ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে মেসার্স পপুলার ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানে মোট জরিমানা আদায় হয় ২৫ হাজার টাকা।
মেহেরপুর: সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ ও শিবপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অপরাধে মেসার্স এস আর বি ট্রেডিং কর্পোরেশনকে ১০ হাজার টাকা এবং গাজী ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
বাগেরহাট: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে সদর উপজেলার নাগের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের দায়ে সুমন বেকারিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
নড়াইল: সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে লোহাগড়া উপজেলার কোলাবাজার ও দিঘলিয়া বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে মেসার্স মায়ের দোয়া জেনারেল স্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি কিংবা ভেজাল ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় ব্যবসায়ীদের দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানো, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

