স্পোর্টস ডেস্ক:
জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন দেশের ফুটবলাররা। ক্লাব পর্যায়েও অনেক খেলোয়াড় পেশাদার চুক্তির আওতায় রয়েছেন। এমন বাস্তবতায় জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নেওয়ার ঘটনায় এবার তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় দলের বর্তমান কয়েকজন খেলোয়াড়কে ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাঁর দাবি, টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে তিনি নিজেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এমন ম্যাচে অংশ নিতে দেখেছেন।
গতকাল রাতে রাজধানীর কালশীতে একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
আমিনুল হক বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের হয়ে খেলার দায়িত্বও তাদের রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ আয়ের জন্য স্থানীয় ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি কতটা যুক্তিসংগত, সেটিই এখন বিবেচনার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব। যেখানে আমরা খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে।’
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের এমন কর্মকাণ্ডে দেশের প্রতি এবং নিজেদের পেশার প্রতি কমিটমেন্টের ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ব্যস্ততার কারণে এখনো বাফুফে সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সতর্ক করার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যারা ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, তাদের বিষয়টি নজরে এনে প্রথমে সতর্ক করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাই এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে পেশাদার আচরণ, জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারী খেলোয়াড়দের দায়িত্বের প্রশ্নও।

