রাজনীতি ডেস্ক:
ঐতিহাসিক বাকশাল পতন দিবস উপলক্ষে তৎকালীন একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। তাঁর দাবি, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরা শারমিন লিখেছেন, ‘আজ ঐতিহাসিক বাকশাল পতন দিবস।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিণতিতেই পরবর্তীতে শেখ পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাকশালী একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চতুর্থ সংশোধনী ও বাকশাল
১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ—বাকশাল—কেন্দ্রিক একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, একদলীয় কাঠামোর কারণে বহুদলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সীমিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে। অন্যদিকে, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।
১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট
বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আসে।
মনিরা শারমিনের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত সেই ঐতিহাসিক সময়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক পথ নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরেছে।

