রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
আন্তর্জাতিক

চীনের আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার অভিযোগ নেপালের সাবেক মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আগে চীনের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পায়নি নেপাল—এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাই। তাঁর দাবি, নেপাল ও চীনের মধ্যে সময়মতো দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান না হওয়ায় এবারের বিপর্যয়ে প্রাণহানি আরও বেড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌলাগাই বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল ধস নামার আগে চীনের পক্ষ থেকে নেপালকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

সাবেক এই মন্ত্রীর ভাষ্য, ২০২৫ সালে একটি ছোট হিমবাহসংক্রান্ত ঘটনার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের একটি প্রটোকল নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এবারের ভয়াবহ ঘটনায় সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।

চৌলাগাই বলেন, ‘আমরা সেই সুযোগটি হারিয়েছি।’

উৎপত্তিস্থল নিয়েও প্রশ্ন

দুর্যোগটির উৎপত্তিস্থল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেপালের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভূমিধসের সূত্রপাত নেপালের ভূখণ্ডে হয়েছিল। তবে চৌলাগাইয়ের দাবি, ঘটনাটির শুরু তিব্বত থেকে। এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

প্রচলিত দুর্যোগ পরিকল্পনার বাইরে ছিল বিপর্যয়

চৌলাগাইয়ের মতে, এবারের ঘটনা নেপালের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার দুর্বলতার পাশাপাশি দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলার বিদ্যমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, নেপালে এত দিন আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মূলত হিমবাহ হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এবারের দুর্যোগের ধরন ছিল ভিন্ন। বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের ফলে হিমবাহ থেকে উৎপন্ন নদীব্যবস্থার একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং আকস্মিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতি নেপালের প্রচলিত দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকল্পনায় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিন দেশের সমন্বিত সতর্কতা ব্যবস্থা চাইলেন

ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল, চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকর ও সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চৌলাগাই।

তাঁর মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে সংঘটিত যেকোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন বা দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিনিময় করা জরুরি। কারণ একটি দেশের ভূখণ্ডে শুরু হওয়া দুর্যোগ খুব দ্রুত অন্য দেশের জনপদেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

দুর্যোগের ঝুঁকিসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে চৌলাগাই বলেন, এ ধরনের তথ্য ভাগাভাগি না করা ‘মানবতার বিরুদ্ধে’।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581