আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজা শহরের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। নিহতদের মরদেহ আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মধ্য গাজা শহরের গাজা মিউনিসিপ্যালিটি পার্কের কাছে একটি আবাসিক ভবনের প্রবেশপথেও ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এদিকে গাজা শহরের উপকূলে জেলেদের নৌকায় ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ থেকে গুলি ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত পাঁচ জেলেকে আল-শিফা হাসপাতাল ও আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের হামাদ ও পশ্চিম সাতর এলাকাতেও ইসরাইলি ড্রোনের গুলি ও বোমা হামলায় তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, হামাদ আবাসিক এলাকার বাড়িঘর লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক যান ও ড্রোন থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে দুজন আহত হন।
ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, হামাদ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের পর বাস্তুচ্যুতদের দুটি তাঁবুতে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পশ্চিম সাতর এলাকায় ড্রোন থেকে ফেলা বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতেও একজন আহত হয়েছেন।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালার পূর্বাঞ্চলেও ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ সময় এক ফিলিস্তিনি নারী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় হামলা বন্ধের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পরও এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়।
এদিকে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শত শত মরদেহও উদ্ধার করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা রোববার পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ৪৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৬ জন।

