আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ ফুরিয়ে আসছে—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে মার্কিন বাহিনী প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করেছে বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর ‘১০০ শতাংশ ভুল’।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাঝারি ও উচ্চমানের গোলাবারুদের ‘প্রায় সীমাহীন পরিমাণ’ মজুদ রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করছে।
অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। যারা মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের স্বল্পতা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছেন বা ফাঁস করছেন, তাদের ‘শিকার’ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন তিনি।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিটও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কথিত বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘১০০ শতাংশ ফেক নিউজ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ক্যাম্প ডেভিডে অস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে এ দাবি নাকচ করে লেভিট বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম। এটি আক্ষরিক অর্থেই কখনো ঘটেনি।’
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে সুইজারল্যান্ড, জাপান, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ কয়েক মাসের জন্য বিলম্বিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে এবং এসব দেশে অস্ত্র সরবরাহ পুনরায় শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এবং মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।

