বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানি নারীর ফাঁদে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট, ফাঁস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কথিত ‘ফাঁদে’ জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই নারীকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে সন্দেহ করছেন ভারতীয় তদন্তকারীরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ মে ওই বিমানবাহিনী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দেশটির Official Secrets Act-এর আওতায় মামলা করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে তাকে দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পাইলট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে জড়িয়ে পড়েন। ওই নারী নিজেকে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে তার সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন চালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মেসেজ আদান-প্রদান ও ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগও শুরু হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই সময় ব্যক্তিগতভাবে কঠিন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বিমানবাহিনীর ওই কর্মকর্তা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তাকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত করা হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তীতে কথিত ওই যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য তার মাধ্যমে বাইরে গেছে, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্তকারীরা শুধু জানিয়েছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ ঘটনায় বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করলে তদন্তের পর ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের পর ওই পাইলট নিজের জামিনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।

মোবাইল অ্যাপ ঘিরে নতুন সন্দেহ

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখন একটি মোবাইল অ্যাপকে ঘিরে। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অ্যাপের মাধ্যমেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে ওই বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তার এক সহকর্মীকে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করে দিতে বলেছিলেন। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসার পর অ্যাপটির কার্যক্রম ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক একটি বড় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। ওই নেটওয়ার্ক কীভাবে কর্মকর্তাটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীরা এখন ওই নারীর পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন, ভিডিও কল, ব্যবহৃত অ্যাপ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

পুরো ঘটনাটি সামনে আসার পর ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে আবারও ‘ফাঁদে’ কৌশলের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493