আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের মুম্বাইয়ে বর্ষার ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধসে ঘটনাস্থলে ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও চারজন।। বুধবার ভোরে ঘাটকোপারের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভোর হওয়ার আগের নীরব সময়ে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই চাপা পড়ে দুই থেকে তিনটি বাড়ি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী এনডিআরএফ এবং পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু প্রবেশপথ উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে। ভারী উদ্ধারযন্ত্র ঘটনাস্থলে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ধ্বংসস্তূপ সরাতে উদ্ধারকারীদের অনেকটাই হাতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
পৌর কর্মকর্তা তানাজি কাম্বলি জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই শিশু ও দুই কিশোরসহ ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আহত চারজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টি বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি
প্রায় দুই কোটি মানুষের এই মহানগরে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ বয়ে আনে। কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই শহরের নিচু এলাকা, সড়ক ও রেললাইন পানিতে ডুবে যায়। ব্যাহত হয় বিমান ও রেল যোগাযোগ। এর সঙ্গে পাহাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যোগ হয় ভূমিধস ও ভবন ধসের আশঙ্কা।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম ভারতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা আরও বাড়তে পারে। ফলে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বাইয়ের দুর্যোগঝুঁকি কেবল অতিবৃষ্টির কারণে তৈরি হচ্ছে না। দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড়ের অস্থিতিশীল ঢালে নির্মাণকাজ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ায় এসব ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে।
প্রতি বর্ষাতেই যখন মুম্বাইয়ের সড়ক ও রেলপথ পানির নিচে চলে যায়, তখন ঘাটকোপারের এই ভূমিধস আবারও সামনে আনল আরও বড় প্রশ্ন প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা এই মহানগর কি তার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিগুলোকে যথেষ্ট নিরাপদ করতে পারছে?
এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে ভারি বৃষ্টির প্রতিটি নতুন পূর্বাভাসের সঙ্গে মুম্বাইয়ের মানুষের সামনে শুধু জলাবদ্ধতার নয়, প্রাণহানির আশঙ্কাও ফিরে আসবে।

