আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে টানা তিন দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি বাহিনীর দাবি, ভারী অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল হুথিরা। হামলার পরিকল্পনা আঁচ করতে পেরে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকারি সেনারা। পরে শুরু হওয়া তীব্র লড়াইয়ে হুথিদের কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং তাদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।
তাইজের সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও মোকা বন্দর এলাকাতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে হুথিদের বিরুদ্ধে। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, এসব এলাকায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়।
ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হুথিদের হামলার আওতায় একটি স্কুল ও একটি মসজিদও পড়েছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হুথিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ দিনে হুথিদের ৫৭ জন নিহত যোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ২০১৪ সালে বড় আকার ধারণ করে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তী সময়ে সংঘাত আরও জটিল হয়ে পড়ে।
২০২২ সালের পর কয়েকটি এলাকায় তুলনামূলকভাবে সহিংসতা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও সংঘর্ষ বাড়ছে। তাইজসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

