আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বড় ধরনের ড্রোন হামলায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে তৈরি ড্রোন ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহার করে রাশিয়ার শিল্প ও সামরিক অবকাঠামোয় একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম এবং একটি তেল শোধনাগার। এসব হামলায় রুশ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় ব্রিটিশ নির্মিত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে ব্রিটিশ প্রযুক্তিনির্ভর দূরপাল্লার ড্রোনের ব্যবহার নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ব্রিটিশ নির্মিত স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে নতুন ধরনের ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে দীর্ঘপথে গিয়ে নির্দিষ্ট শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলোর ব্যবহার সংঘাতের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়াও এ ধরনের হামলায় ব্রিটিশ সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এর আগে দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশ ও নকশা ব্যবহার করে তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রোস্তভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলার একটি জ্বালানি ডিপোও এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
এদিকে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারির বাইরে থাকা জ্বালানি, শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোও ক্রমেই হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা প্রযুক্তি ও অস্ত্রের সহায়তায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়তে থাকলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনাও নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ব্রিটিশ নির্মিত ড্রোনের সুনির্দিষ্ট মডেল, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা এবং ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

