নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৯), তিন বছরের সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪)ও প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই আবাসিক হোটেলের চারতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দ্রুত নিরাপদে বের হতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহত দেবাশীষ দত্ত সাংবাদিকতার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৈনিক আজকের আলোর সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান। তিনি জানান, দেবাশীষ দত্ত দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও সক্রিয় ছিলেন।
জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়েছিলেন দেবাশীষ দত্ত। সেখানেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের চার সদস্যকে হারাতে হলো।
সহকর্মীদের ভাষ্য, দেবাশীষ দত্ত ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক ও সদালাপী মানুষ। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও সহকর্মী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণের জন্য তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোক।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে চলছে শোক ও আহাজারি। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে গভীর বেদনা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক অতিথি সময়মতো কক্ষ থেকে বের হতে পারেননি। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হোটেল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রকৃত পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা বলছেন, তাঁর চলে যাওয়া শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।

