বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

দিঘলিয়ায় বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

খুলনা ব্যুরো:

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও সমবায়ের শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে খুলনার দিঘলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী সমবায় অধিদপ্তর প্রণীত বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচিতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

সম্প্রতি খুলনার দৌলতপুর এলাকার আলী ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরাও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি মুন্নি আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সুরঞ্জন কুমার মন্ডল, লিটন কুমার, নাসরিন বেগম, তানিয়া, তন্দ্রা ও মাবিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরা।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না; এটি মানুষের জীবন, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বায়ুদূষণ কমানো এবং একটি টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

সমিতির সহ-সভাপতি মুন্নি আক্তার বলেন, “বৃক্ষ শুধু আমাদের অক্সিজেন দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

তিনি বলেন, সমবায় সংগঠনগুলোকে শুধু সঞ্চয়, ঋণ বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসতে হবে। বৃক্ষরোপণকে নিয়মিত সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সমবায় মানে শুধু সঞ্চয়, ঋণ কিংবা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নয়—সমবায় হচ্ছে মানুষের সম্মিলিত শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি, তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও কার্যকর অবদান রাখতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, আজ একটি গাছ রোপণ করা হলে এর সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভোগ করবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের সমবায় সমিতিগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “প্রত্যেক সমবায়ী যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সমাজ আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে। আজকের এই আয়োজন শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচি নয়; এটি একটি সুন্দর, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।”

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস প্রাঙ্গণ, রাস্তার পাশ এবং বিভিন্ন খালি জায়গায় বেশি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।

সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার ছিল “সমবায়ের শক্তিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ—এই হোক আগামীর অঙ্গীকার।”

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493