বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

খুলনা বিভাগের সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা

খুলনা ব্যুরো:

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশের ১০ বছর বয়সী সব কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় এনে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, “দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এইচপিভি টিকা একটি বড় মাইলফলক। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি যোগ্য কিশোরীর কাছে এ টিকা পৌঁছে দিতে হবে।”

রোববার (২৩ আগস্ট) খুলনার হোটেল সিটি ইনে অনুষ্ঠিত ‘খুলনা বিভাগের সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ১০ বছর বয়সী সব কিশোরীকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে এ কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

এইচপিভি টিকা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টায় নয়, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের মসজিদগুলোর ইমামরা মুসল্লিদের মধ্যে এইচপিভি টিকা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, কিশোরীদের সময়মতো এইচপিভি টিকা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। তাই টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও সর্বজনীন করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ এবং ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক, এমআইএস পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিসেফ খুলনার চিফ মো. কাওসার হোসেন, ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক ডা. সাব্বির হায়দার এবং খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস।

দিনব্যাপী কর্মশালায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম, ইপিআই, এইচপিভি টিকাদানসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় বিভাগের ১০ জেলার সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ইপিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরীদের টিকার আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার পথ আরও সুগম হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493