খুলনা ব্যুরো:
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নানা অনিয়মের অভিযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৭টি দল খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার সাতরাস্তা ও নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অপরাধে গরীব নেওয়াজ ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে ঝিকরগাছা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় সুজন ইলেকট্রনিককে ৩ হাজার টাকা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় বিশাল স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খানজাহান আলী থানার শিরোমণি ও গিলাতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে ইয়াদুল বেকারিকে ৪ হাজার টাকা এবং বাগাট দধি ঘরকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার লাবনী মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের দায়ে ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার এইচএসএস রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে জেএফসি রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণের অপরাধে মেসার্স জাগ্রত ফুড প্রোডাক্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সদর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের দায়ে ঢাকা কাচ্চি বিরিয়ানিকে ৩০ হাজার টাকা, জোছনা বেকারিকে ৩০ হাজার টাকা এবং আল বারাকা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

