খুলনা ব্যুরো:
১৯৭১ ও ২০২৪ সালের পরাজিত অপশক্তি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা। তাদের দাবি, গুজব, প্ররোচনা, উসকানি ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি আয়োজিত যৌথ প্রস্তুতি সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। নগরীর মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। সভা পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।
সভায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে খুলনা মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দলীয় কার্যালয়গুলোতে করা হবে আলোকসজ্জা। একই দিন বিকেল ৩টায় নগরীর জিয়া হল চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) বর্ণাঢ্য সমাবেশ ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ব্যানার ও মিছিল নিয়ে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী এমপি, আমির এজাজ খান এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বিশেষ বক্তা হিসেবে থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা। যৌথভাবে সঞ্চালনা করবেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ও শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শফিকুল আলম মনা ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনকে। সাজসজ্জা উপকমিটির আহ্বায়ক কে এম হুমায়ুন কবীর এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বাচ্চু। শৃঙ্খলা উপকমিটির আহ্বায়ক শেখ সাদী এবং সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ সুমন।
২১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে হামলার নিন্দা
সভায় খুলনা নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে গভীর রাতে ককটেল হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, শান্ত খুলনাকে অস্থিতিশীল ও আতঙ্কগ্রস্ত করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
তারা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নেতাদের অভিযোগ, হামলার আগে পরিকল্পিতভাবে একটি মিছিল বের করা এবং সেখানে উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও সন্দেহজনক। ওই মিছিলে বিগত সরকারের দোসর ও অনুসারীদের উপস্থিতি ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
সভায় মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, কে এম হুমায়ুন কবীর, হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মাদ আলী বাবু, সৈয়দা রেহানা ঈসা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, সৈয়দা নার্গিস আলী, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান আসাদ, মজিবর রহমান, আজিজা খানম এলিজা, আব্দুল আজিজ সুমন, আক্তারুজ্জামান তালুকদার সজিব, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বাচ্চু, মিজানুর রহমান মিলটন, আবু সাঈদ শেখ, জাকির ইকবাল বাপ্পী, নাসির উদ্দিন, মতলুবুর রহমান মিতুল, রবিউল ইসলাম রুবেল, মো. তাজিম বিশ্বাস, রকিবুল ইসলাম মতি, শফিকুল ইসলাম শফি, ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি, কে এম জলিল ও শেখ আদনান হোসেন প্রমুখ।

