বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরকোলা গ্রামে একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকদিন ধরে একটি ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনটি গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন পশ্চিম চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বেগম (৫২), তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। তিনি কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে ঘরটি বন্ধ ছিল এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলেও প্রথমে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। দুর্গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে তিনজনকে হত্যা করে থাকতে পারে। মরদেহে পচন ধরায় হত্যাকাণ্ডটি কয়েকদিন আগেই সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কচুয়া থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

