খুলনা ব্যুরো:
খুলনা বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচটি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের পূর্ত কাজের জন্য ১৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৩ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) বাস্তবায়নাধীন ‘বাপবিবোর বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এসব উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউ-১০-এর আওতায় কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ৩৩/১১ কেভি ক্ষমতার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা হবে ১×১০/১৪ এমভিএ। এসব উপকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, পাঁচটি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। মূল্যায়নের পর চারটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা টিএস ট্রান্সফরমার্স লিমিটেড ও ফুজিয়ান ইয়ংফু পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্যোগের কাছ থেকে কাজটি কেনার প্রস্তাব করা হয়। তাদের দেওয়া ১৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৩ টাকার দরপ্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব উপকেন্দ্র নির্মাণের ফলে খুলনা বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য হবে। এতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং বিতরণ ব্যবস্থার চাপ কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির ব্যয় সরকারি অর্থ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে পাওয়া অর্থ এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে নির্বাহ করা হবে।
২০২১ সালের ৪ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

