খুলনা প্রতিনিধি:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি তাদের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানোই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনার একটি স্থানীয় হোটেলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। খাবার পচা, নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত মনে হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দিতে হবে এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম কিংবা নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এতে তাদের শেখার সক্ষমতাও বাড়ে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ এবং ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’—প্রাথমিক শিক্ষার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের শিক্ষায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে আনা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদারস কমিটিকে কর্মসূচির তদারকিতে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। খাবারের মান, পরিমাণ ও সরবরাহের বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়লে অনিয়ম কমবে এবং কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

