খুলনা ব্যুরো:
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে খুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধন সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এ উদ্যোগের আওতায় নগরীর ১৮ জন নারী উদ্যোক্তাকে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য প্রত্যেককে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে আয়োজিত ‘খুলনার নারী উদ্যোক্তাদের পাশে ওয়ার্ল্ড ভিশন : মূলধনে সহায়তা প্রদান কর্মসূচি-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সহায়তা দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ‘উইমেন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, যত্ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, নিয়মিত টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ শুধু একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে না, এর সুফল পুরো পরিবারে পৌঁছে যায়। তাই নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমে নগরীর আরও নারী উদ্যোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা নগরীর প্রায় ৬০০ নারী উদ্যোক্তাকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু ব্যবসায়িক মূলধন সহায়তাই নয়, প্রকল্পের আওতায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পুষ্টি সহায়তা এবং নারীদের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির উল জব্বার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার আবেদা সুলতানা, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, কেসিসির সংরক্ষিত আসনের সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনাহেনা, সমাজসেবক জামিরুল ইসলাম জামিল, শেখ জাহিদুল ইসলাম ও পারভেজ মোড়লসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের সহায়তার পর পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। এর মাধ্যমে নগরীর পিছিয়ে থাকা নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

