স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনায় এক সাংবাদিকের ঘেরে তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে আর এস হৃদয় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক মো. বিলাল।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. বিলাল পেশায় একজন সাংবাদিক। লবণচরা থানাধীন মাধ্যভাঙ্গা রেলব্রিজ সংলগ্ন প্রায় ৬ বিঘা জমির একটি ঘের রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আর এস হৃদয় ওই ঘেরের দেখাশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেখানে একটি কক্ষে অবস্থান করতেন। অভিযোগকারী জানান, গত ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে ঘের থেকে বের হয়ে যান। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঘেরে ফিরে তিনি দেখতে পান, কক্ষের দরজার তালা খোলা এবং ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কক্ষে প্রবেশ করে তিনি একটি পানির মোটর, যার আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা, একটি ডিজিটাল স্কেল মেশিন, যার মূল্য প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং ঘেরের সবজি ও ফল বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা খুঁজে পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আর এস হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগকারীর সন্দেহ, তার অনুপস্থিতির সুযোগে ঘেরের কক্ষে প্রবেশ করে এসব মালামাল ও নগদ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর এস হৃদয় বিভিন্ন সময়ে নিজেকে কখনো স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবার কখনো এনসিপি, খুলনা মহানগরের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সাংগঠনিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ ছাড়া, বিভিন্ন অনিবন্ধিত ও নামসর্বস্ব সামাজিক সংগঠন গঠন করে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে যা পাওয়া গেল
ঘটনার পর সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগে উল্লেখ করা কক্ষ, দরজা ও ঘেরের পরিবেশ দেখা হয়েছে। সেখানে কক্ষের দরজা ও ভেতরের মালামালের অবস্থার সঙ্গে অভিযোগকারীর বর্ণনার মিল পাওয়া গেছে। তবে চুরি হওয়া মালামাল কার মাধ্যমে সরানো হয়েছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের বিষয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে আর এস হৃদয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী মো. বিলাল জানান, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল ও অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান।
এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

