স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে বিসিবি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) সুপারিশের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের আওতায় সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসাইন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের পাশাপাশি তিনজনকেই সাময়িকভাবে (প্রভিশনাল সাসপেনশন) সব ধরনের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা বা সাফাই দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী পরবর্তী শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
শামীমের বিরুদ্ধে চার ধারায় অভিযোগ
বিসিবির সাবেক পরিচালক (২০২৫–২০২৬) ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ধারা ২.১.১ অনুযায়ী, বিপিএলের ১২তম আসরের কোনো ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিক প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ম্যাচ ফিক্সিং, ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা, অনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা এ ধরনের কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ধারা ২.১.৪ অনুযায়ী, কোনো অংশগ্রহণকারীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো, উৎসাহিত বা সহায়তা করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ধারা ২.৪.৪-এ দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য পাওয়া কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ যথাসময়ে মনোনীত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে ধারা ২.৪.৭-এ সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জাকিরের বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ
বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসাইনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ধারা ২.১.১ অনুযায়ী বিপিএলের ১২তম আসরের ম্যাচ বা ম্যাচগুলোর ফল, অগ্রগতি কিংবা পরিচালনার কোনো দিক প্রভাবিত করতে ম্যাচ ফিক্সিং, ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ধারা ২.১.৪ অনুযায়ী, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ধারা ২.৪.৬ অনুযায়ী, যথেষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া আইসিসির মনোনীত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা (ড্যাকো) পরিচালিত সম্ভাব্য দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোডের ৪.৩ ধারার অধীনে জারি করা তথ্য বা জবাব তলবের নোটিশ মেনে না চলার বিষয়টিও রয়েছে।
সানির বিরুদ্ধে দুই ধারায় অভিযোগ
বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ধারা ২.৪.৪ অনুযায়ী, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য তার কাছে আসা কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ অযথা বিলম্ব না করে মনোনীত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ধারা ২.৪.৬ অনুযায়ী, যথেষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া ড্যাকোর পরিচালিত সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে
বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর তিন অভিযুক্তকে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ গঠন বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত দোষ প্রমাণের সমতুল্য নয়। চলমান শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিবেচনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

