স্পোর্টস ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের জন্য ছিল চরম পরীক্ষা। শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে সফরকারীরা। তবে দলের সংকটময় মুহূর্তে অসাধারণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদেই শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন হান্নো জ্যাকবস। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি।
অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৩৭ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন, যতক্ষণ না মিরাজ তার ইনিংস শুরু করেন। সাদমান ইসলাম ৩১, মুমিনুল হক ১৬ এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান ১৫ রান করেন। অন্যদিকে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারানো বাংলাদেশ চা বিরতির সময় ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে পৌঁছে বড় বিপদের মুখে ছিল।
ঠিক সেই অবস্থায় হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে ধৈর্য ও আক্রমণের দারুণ সমন্বয়ে ইনিংস গড়েন তিনি। মাত্র ১৪১ বল মোকাবিলা করে ১১টি ছক্কা ও ৪টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ১০৯ রান করেন এই অলরাউন্ডার। তার ঝড়ো শতকের কল্যাণেই বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার আগে সংগ্রহ করে ২৬৩ রান, যা একসময় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক ছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি। তিনি ২৪ ওভার বল করে ৮৩ রান খরচায় ৬টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া একটি করে উইকেট শিকার করেন।
প্রথম দিনের খেলায় বাংলাদেশের শুরুর সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তেমনি মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি সফরকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। কঠিন পরিস্থিতিতে তার এই ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছে।

