বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ ● ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা
জাতীয়

সাত মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহদী আমিন

ন্যাশনাল ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এ সময়ে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলের পুঞ্জীভূত জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে গত সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলের ভিন্নমত, পথ, আদর্শ বা রাজনৈতিক মূল্যবোধ হরণের ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ হলো, অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় কিংবা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল।

স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। অতীতের মতো কোনো ঘটনা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন।

তাঁর মতে, ওই আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। সেই সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

আইন প্রণয়নে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার দাবি

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একশর বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন যেসব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোর খসড়া আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বাস্তবসম্মত মতামত পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সে বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম ব্যক্তিদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আইনের অক্ষরের চেয়ে এর সঠিক প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে সংবিধানের বিভিন্ন ধারার অপব্যাখ্যা করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাই আইনের ভাষার পাশাপাশি এর মানবিক ব্যাখ্যা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন আচরণ হলেও সরকার সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রাখার কথা বলেন। বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাতার নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভূমিকা নিয়ে মাহদী আমিনের বক্তব্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সংকট ও গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, বাকশাল, সামরিক শাসন ও দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাকশালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। স্বৈরশাসনের অবসানের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে। আর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক পথে ফিরেছে।

মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম ও নিহত হয়েছেন বলে দলটির দাবি। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের—এই নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, রাজনীতিকদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তারুণ্যের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493