মধুমতি অনলাইন ডেস্ক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দিন হিসেবে স্থান করে নেয়। সরকারবিরোধী এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনের প্রথম দিনেই সরকার-সমর্থক নেতা-কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলা ও মহানগরে ৯৮ জন নিহত হন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায়, যেখানে হামলার ঘটনায় পুলিশের ১৩ সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৃথক হামলায় হাইওয়ে পুলিশের একজন সদস্য প্রাণ হারান। এসব ঘটনার পর দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে আন্দোলনের কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পূর্বঘোষিত মঙ্গলবারের পরিবর্তে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে সোমবার পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষকে রাজধানীতে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের এক নাটকীয় পরিণতি ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারে দেশ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর গণভবনে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবেশ করেন। মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে।
পরিস্থিতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

