রাজনীতি ডেস্ক:
মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও মতের বহু নাগরিক। তাদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং স্বজনেরা বছরের পর বছর ধরে তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বহু মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, যা মানবাধিকারের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি, তাদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং বছরের পর বছর অপেক্ষার বেদনার মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
তবে বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গুমের শিকার বহু মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নাহিদ ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরা এবং গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে যেন ভবিষ্যতে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও কান্নার জবাব সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির মাধ্যমে দিতে হবে। এর মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

