রাজনীতি ডেস্ক:
শরিয়াহবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আইনটির প্রতিবাদে শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল করীম বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান এবং ধর্মপ্রাণ। এমন একটি দেশে ধর্ম ও ইসলামবিরোধী কোনো আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত নয়।
তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনী আনা হয়। ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তাঁর দাবি, এ আইনের মাধ্যমে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের একটি অকাট্য বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই নাগরিকদের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে—এমন কোনো আইন সরকার করতে পারে না।
ফয়জুল করীম আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বিভিন্ন সময়ে অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস না যেতেই শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে আইনটি বাতিলের দাবি জানান।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীকে কথাবার্তায় আরও মার্জিত হতে হবে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা শোভনীয় নয়। পশ্চিমা ও ব্রিটিশ আইনে আইনমন্ত্রী অভিজ্ঞ হলেও শরিয়াহ আইন ও এর প্রয়োগের বিষয়ে উলামায়ে কেরামের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বেশি। তাই শরিয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, দেশে মানুষের নানা সমস্যা রয়েছে। বেকারত্ব বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, সন্ত্রাসে মানুষ আতঙ্কিত এবং বিদ্যুৎ সংকটেও জনজীবন দুর্ভোগে পড়ছে। এসব বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার শরিয়াহবিরোধী আইন প্রণয়নের দিকে যাচ্ছে এটি জাতির জন্য হতাশাজনক।
তবে আইনটি প্রণয়নে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে এখনো আশাবাদী বলে জানান তিনি। ফয়জুল করীম বলেন, সম্ভবত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা না করেই আইনটি আনা হয়েছে। তাই সরকারকে আইনটি পুনরায় পর্যালোচনা করে উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে, তবে সমস্যা সমাধানের নামে কোনোভাবেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

