স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার জোরালো প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্টের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নাম প্রকাশ করা হতে পারে।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তাঁদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।
গঠনতন্ত্রে দুই বছরের মেয়াদ, বাস্তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির মেয়াদ এক বছর। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার নজিরও রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি কমিটির মধ্যে অধিকাংশই প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করলেও রাজীব-আকরাম নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্বে ছিল, যা সংগঠনের দীর্ঘতম কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় নতুন কমিটি
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির একটি খসড়া ইতোমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
সম্ভাব্য ঘোষণাকে সামনে রেখে পদপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরছেন।
সভাপতি পদে যাঁদের নাম আলোচনায়
সভাপতি পদে বর্তমানে যেসব নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, সহ-সভাপতি আনোয়ার পারভেজ, মনজুরুল আলম রিয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ এবং সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেল।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য মুখ
সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শাকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওন এবং প্রথম সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক।
নেতাদের প্রত্যাশা
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী, ছাত্রবান্ধব এবং সাংগঠনিক দক্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী জাহিদ হাসান শাকিল বলেন, দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নই তাঁর অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, “পদ নয়, দায়িত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ছাত্রদল একটি গতিশীল সংগঠন এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, মামলা-হামলার শিকার, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে।
অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। দায়িত্ব পেলে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে ছাত্রদলকে আরও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ, রিমান্ড ও গুমের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
তৃণমূলের প্রত্যাশা
সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব আসা উচিত, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী এবং ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

