রাজনীতি ডেস্ক:
মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার নিজের কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্য বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্দিজীবনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রিজভীর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত জনগণের ধাওয়া খেয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আড়াল বা খাটো করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তার দাবি, স্বাধীনতার ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরার পরিবর্তে তাকে ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একটি চিত্র প্রদর্শনীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাকে তুলে ধরা হলেও সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা স্থান পায়নি।
এ ধরনের উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘ছোটলোকি’ আখ্যা দেন।
কার স্বার্থে এসব করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে খুশি করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে।
তবে রিজভীর বক্তব্যগুলো তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ; এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

