আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। প্রণালিটি পারাপারের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৫টি বাণিজ্যিক ও তেলবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির নতুন গঠিত পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ)।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় পিজিএসএ। সংস্থাটির এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পিজিএসএ জানিয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত ৪৫টি জাহাজের সঙ্গে কোনো জাহাজ পণ্য বা কার্গো স্থানান্তরের কাজে যুক্ত হলে সেটিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা, আটক এবং পণ্য জব্দের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান।
তবে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পিজিএসএ। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর দেশটির কাছ থেকে ট্রানজিট অনুমতি নেওয়া এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং, সৌদি আরবের বাহরি এবং আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানের জাহাজ রয়েছে।
ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছে। এর জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংঘাত শুরুর আগে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। বর্তমানে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের সংখ্যা আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম ছিল। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

