ন্যাশনাল ডেস্ক:
রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং স্বৈরাচার ও দমন-পীড়নের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই জাদুঘর নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস জানাবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে দেশের বহু মানুষ গুম, হত্যা ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন আর কখনো স্বৈরশাসন বা অন্যের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক ও গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্মৃতিচারণ করেন। পাশাপাশি আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই সময় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সেই সরকারের উদ্যোগেই গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আজ সেই উদ্যোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

