ন্যাশনাল ডেস্ক:
গবাদিপশুর জন্য ক্ষতিকর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নিয়ন্ত্রণে দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভাইরাল এলএসডি ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এ ভ্যাকসিন বাজারজাত করা সম্ভব হলে খামারিদের ব্যয় কমবে, ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।
শুক্রবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এলএসডি ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন দেশে এ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি খামারিদের জন্য টিকার সরবরাহও সহজ হবে।
খামারিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এলএসডির টিকা নিশ্চিত করতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে তা দ্রুত অন্য পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন নতুন জাতের ঘাস চাষের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন জাতের এই ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এটি চাষের মাধ্যমে খামারিরা কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন। এতে দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গবাদিপশু পালনের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে জানিয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এর মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণিসম্পদ খামারি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও গোটপক্সের প্রাদুর্ভাবের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ক্যাম্পেইনের আওতায় আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে ২ হাজার ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

