আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বড় ধরনের প্রভাব থেকে চীন নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার বৃহত্তম তেল কোম্পানি রসনেফটের প্রধান ইগর সেচিন। তাঁর দাবি, চীনের বিপুল তেল মজুত এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সহযোগিতা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ইগর সেচিন বলেন, চীনের পর্যাপ্ত তেল মজুত এবং মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হলেও দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সংকট দেখা দিলে অনেক দেশ যেখানে সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ে, সেখানে চীন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সেচিনের এই মন্তব্যের মধ্যেই রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি চীনের বাজারে যাবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি নির্ভরতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও রুশ জ্বালানি আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর পর মস্কো ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াতে মনোযোগী হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চীন রাশিয়ার তেল ও গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের অন্যতম প্রধান ক্রেতায় পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে চীনের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক এবং নিজস্ব তেল মজুতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের সময় চীন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে থাকতে পারছে বলে মনে করছেন রুশ জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে কোনো কারণে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে বা সেখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এমন প্রেক্ষাপটে চীনের নিজস্ব তেল মজুত এবং রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতাকে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয় হিসেবে দেখছেন রুশ কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক কোনো বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলেও এসব ব্যবস্থা চীনের ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।

