চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী–জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, একটি ভবনে অভিযান চলছে। তবে কী কারণে অভিযান চালানো হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো সম্ভব হচ্ছে না। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে তাঁদের কী ধরনের কার্যক্রম ছিল এবং তাঁরা কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন ও বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম পরিচালনার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। এ কারণে অভিযানে জব্দ করা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, এসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ ও অনলাইন কার্যক্রমসংক্রান্ত কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, কথিত ওই ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা লেনদেনের কোনো হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।
নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, অনলাইন লেনদেন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে। বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তা-ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
অভিযানের সময় ভেতরে ঢুকতে পারেননি সাংবাদিকেরা
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের ভেতরে কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল বা সেখানে কথিত ক্যাসিনো পরিচালনার কোনো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, তা সরেজমিনে দেখা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযান চলাকালে ভবনের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে বিদেশি নাগরিকদের সেখানে অবস্থানের উদ্দেশ্য, কথিত জুয়া বা ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা এবং বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিষয়গুলো এখনো তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

