বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ ● ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা ● নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের ● ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
সারাদেশ

পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় অচিরেই সরকারিকরণ করা হবে: এমপি এনামুল হক

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় অচিরেই সরকারিকরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পটিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম। তিনি বলেছেন, ১৮২ বছরের পুরোনো এ বিদ্যালয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

সারা বাংলাদেশ পুরোনো প্রাচীন বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১তম পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা অর্জন করে বহু গুণীজন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। সচিব, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, কবি ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষ এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।

আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) বুধবার পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রাক্তন ছাত্র গাজী মুহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক চন্দন কান্তি নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক
জনমনে আলহাজ্ব মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, সাবেক পটিয়া পৌরসভার মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর,পটিয়া ক্লাবের এডহক কমিটির সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, মনুল আলম ছোটন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বড়ুয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এ বিদ্যালয় থেকে অনেক গুণী মানুষ শিক্ষা অর্জন করেছেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে সচিব, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশায় এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গৌরব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টি অচিরেই সরকারিকরণ করা হবে। তিনি বলেন, পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সরকারিকরণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এ বিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস ও অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। তিনি আরোও বলেন, পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় শুধু পটিয়ার নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের গর্ব, এ বিদ্যালয়ের সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।

এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকারিকরণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদ্যালয়টির গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৮৪৫ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনপদ যখন আধুনিক শিক্ষায় অনেকটা পিছিয়ে ছিল, তখন পটিয়ার দক্ষিণ ভূর্ষি গ্রামের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত দুর্গাকিঙ্কর দত্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। মাটির ঘরে শুরু হওয়া সেই বিদ্যালয় সময়ের পরিক্রমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তিব্বতজয়ী ইতিহাসবিদ শরৎচন্দ্র দাশ, কংগ্রেস নেতা ও ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে ভূমিকা রাখা যাত্রামোহন সেন, কবি ও ম্যাজিস্ট্রেট নবীনচন্দ্র দাশ, সাহিত্য বিশ্লেষক ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য শশাঙ্ক মোহন সেন এবং পুঁথি সংগ্রাহক ও বাংলা সাহিত্যের গবেষক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতও এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, সমৃদ্ধ পাঠাগার ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশের কারণে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গনের কৃতী মানুষের পদচারণায় বিদ্যালয়টি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে শিক্ষার ধরন ও চাহিদা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, উন্নত অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হলে এর ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।


অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493