আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইয়েমেনের জরুরি বাহিনীর পরিচালিত কয়েকটি সামরিক শিবিরও। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় এই হামলাকে নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধির বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত এ অভিযানে সরকারি বাহিনীর ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছেন। তবে তার এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্য, হুথিদের অবস্থানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে।
সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মারিবের উত্তরে আল-জাওফ প্রদেশ থেকে অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এগুলো হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রুক এলাকায় অবস্থিত সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
এদিকে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলেও এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হুথিদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।

