স্পোর্টস ডেস্ক:
রহমত শাহ ও আব্দুল মালিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় আবুধাবি টেস্টে লড়াই জমিয়ে তুলেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান করেছে আফগানরা। ফলে হাতে ৬ উইকেট নিয়ে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে দলটি।
শনিবার প্রথম দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। তবে বাকি দুই উইকেটে আর মাত্র ২৯ রান যোগ করতে পারে দলটি। শেষ দিকে নাঈম হাসানের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৩৫ রান। ৬৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৪৬ রানে।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম সাফি। তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি, ইসমত আলম ২টি এবং কাইস আহমদ ১টি উইকেট নেন।
৩৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারানোর শঙ্কায় পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলের ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। জোরালো আবেদন করেও সাড়া পাননি বাংলাদেশের বোলাররা। বাংলাদেশ রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে যান অটল। পরে রিপ্লেতে আলট্রাএজে স্পষ্ট স্পাইক দেখা যায়, যা বাংলাদেশের জন্য উইকেট পাওয়ার বড় সুযোগ ছিল।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অটল। হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৭ রান করেন এই ওপেনার। দলীয় ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর ৩৪ রানে ১ উইকেট নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় দলটি।
দ্বিতীয় উইকেটে দলীয় ৬৪ রানে শহিদুল্লাহকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন ইবাদত হোসেন। তাঁর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন শহিদুল্লাহ। ২০ রান করে ফেরেন তিনি। উইকেট পাওয়ার পর চিরচেনা স্যালুটে উদযাপন করেন ইবাদত।
এরপর তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস সামাল দেন আব্দুল মালিক। দুজনের ব্যাটিংয়ে চা-বিরতির আগে ভালো অবস্থানে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। এ সময় নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকও তুলে নেন মালিক।
তবে চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই ভাঙে তাঁদের ৭০ রানের জুটি। ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মালিক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। এরপর মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন হাশমতউল্লাহ শহিদী। কোনো রান না করেই বিদায় নেন সদ্য সাবেক এই আফগান অধিনায়ক।
দুই উইকেট দ্রুত হারানোর পরও হাল ছাড়েননি রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিল। পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটিতে দিন শেষ করে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রহমত। ১৮৬ বল মোকাবিলা করে ৮৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ৯১ বলে ২৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন ইকরাম।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ইবাদত হোসেন। ১১ ওভার বল করে ২টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে উইকেট। অন্যদিকে ২১ ওভার বল করেও উইকেটের দেখা পাননি তাইজুল ইসলাম।
দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সুবিধাজনক। তবে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের অবিচ্ছিন্ন জুটি তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

