বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
জাতীয়

জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চাকরিদাতা-প্রার্থীর সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ

ন্যাশনাল ডেস্ক:

দেশের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের সুযোগের মূলধারায় নিয়ে আসতে জেলা পর্যায়ে চালু করা হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি জেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হবে।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির চাহিদা নিরূপণ এবং নিয়োগদাতার সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীর সমন্বয়ের জন্য সরাসরি কার্যকর কাঠামোর ঘাটতি ছিল। সেই ঘাটতি পূরণেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিনের ভাষায়, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই হবে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

জেলা পর্যায়েই মিলবে চাকরি ও দক্ষতার সংযোগ

নতুন ব্যবস্থায় শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে কোন ধরনের দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে এবং কোন ধরনের চাকরিপ্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে সেটিও সমন্বয়ের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রার্থীদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অগ্রাধিকার পাবেন পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী

সরকারের এই কর্মসংস্থান উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুফল থেকে সমাজের কোনো নাগরিক যেন পিছিয়ে না থাকেন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন পদ

কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতেও বড় পরিসরে নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নকে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষতা ও ডিজিটাল সমতা

শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য তরুণদের ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রস্তুত করা।

পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল ও অভিন্ন পোশাক চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে শহরের উন্নত বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া-ভিত্তিক পাঠদান যেন গ্রামের শিক্ষার্থীরাও পায়, সে লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মর্যাদা বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যমেয়াদি সমাধানের আশ্বাস

দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে পাঁচ বছরের কৌশল

সম্মেলনে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও এসডিজি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়; এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা, যেখানে নাগরিকের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তার নিজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতাও বাড়বে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথাও জানান তিনি।

এদিকে তৃণমূলের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493