গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে দুই আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। হামলার শিকার সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানান।
আইনজীবীদের অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট বিকেল ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশের জজ কোর্টসংলগ্ন সড়কে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা হেলমেট ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার পর স্থানীয় আইনজীবী ও কয়েকজন ব্যক্তি অভিযুক্তদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হওয়ার পর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের পরোয়ানা জারির পরও অভিযুক্তরা বাইরে থাকলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। তাই দ্রুত পরোয়ানা কার্যকর করে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে এবং জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বাদী, হামলার শিকার দুই আইনজীবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের পাশাপাশি গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীদের দাবি, আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হলে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমবে।

