রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
আন্তর্জাতিক

হরমুজ সংকটের সমাধান না হলে ইরানে ফের বড় হামলার পথে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক ইরানি বিশ্লেষক। তবে একই সঙ্গে তার দাবি, সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানোর বদলে এমন একটি পথ খুঁজছেন ট্রাম্প, যেটিকে তিনি পরাজয় নয়, বরং ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি করা। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে পরাজয় স্বীকার করার অবস্থানে ট্রাম্প যেতে চাইবেন না।

খোশচেশমের ভাষ্য, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা প্রতিকূলই হোক, ট্রাম্প নিজেকে পরাজিত হিসেবে তুলে ধরার সম্ভাবনা কম। বরং এমন কোনো সমাধান খোঁজার চেষ্টা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েও সেটিকে নিজের সাফল্য হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়।

হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর?

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন এই ইরানি অধ্যাপক। তার দাবি, বর্তমানে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো ইরানের নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করেই চলাচল করছে।

তার মতে, জাহাজ চলাচলের এই বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের চাপ ও উদ্যোগ এখনো প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারেনি। ফলে সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় আসতে পারে।

দূতাবাসে সতর্কতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলোকে ন্যূনতম সক্ষমতায় পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিকেও খোশচেশম সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তার ধারণা, এমন সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কূটনৈতিক সতর্কতা নয়; এর পেছনে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ সামরিক পরিস্থিতির প্রস্তুতিও থাকতে পারে। সেই হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তবে হামলার সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়

তবে অধ্যাপক খোশচেশমের বক্তব্যকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো বড় সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।

এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, ইরানের ওপর চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত কমিয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে, নাকি হরমুজ ইস্যুতে অচলাবস্থা আরও গভীর হলে সামরিক চাপের পথেই ফিরবে। সেই সিদ্ধান্তই আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581