আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল জনজীবনে চরম সংকট তৈরি করেছে।
আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর রব ফার্গুসন পুরো অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওয়াশিংটনের অন্তত ১২টি বড় দাবানল এলাকায় আগুন জ্বলছে। এতে ইতোমধ্যে ৮০ হাজার ৯০০ হেক্টরেরও বেশি ভূমি পুড়ে গেছে। দীর্ঘ চার বছরের খরায় বনাঞ্চল ও তৃণভূমি অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়ায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ওয়াশিংটনের ইতিহাসের দীর্ঘতম খরাগুলোর অন্যতম, যা দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত গভর্নর রব ফার্গুসন জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী খরার পাশাপাশি প্রবল দমকা বাতাস আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত খোলা স্থানে আগুন জ্বালানো এবং কৃষিকাজে আগুন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আগস্ট মাসের শুরুতেই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ২০২৬ সাল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুমগুলোর একটি হিসেবে রেকর্ড হতে পারে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে আগুন স্পোকেন নদী অতিক্রম করে শহরের মূল অংশে পৌঁছে যায়। এরপর শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে সর্বোচ্চ সতর্কতার আওতায় এনে জরুরি ভিত্তিতে বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন শহরতলির বাসিন্দারা। যাদের বাড়িঘর আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সীমানা কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত। একই সময়ে প্রতিবেশী কানাডাও ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে। গত জুলাই মাসে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে যায়, যার আয়তন প্রায় পুরো বেলজিয়ামের সমান।
উত্তর আমেরিকাজুড়ে চলমান এই দাবানল পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

