ঢাকা ব্যুরো:
রাজধানীর সদরঘাটের ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিতুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মিতুল কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ঝালকাঠির সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে।
বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
স্থানীয়দের দাবি, মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটকে ঘিরে চাঁদাবাজির অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে শনিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় কিরণপন্থী হিসেবে পরিচিত এক সদস্যকে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে বুকে আঘাত করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মিটফোর্ডে স্বজনদের ভিড়
মিতুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও পরিচিতরা মিটফোর্ড হাসপাতালে জড়ো হন। সেখানে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষে নিহত মিতুল ঠিক কোন পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং সংঘর্ষে তার ভূমিকা কী ছিল—এ বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
‘ওরা আমার সমর্থক নয়’: সুমন ভূঁইয়া
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের তিনি তার সমর্থক হিসেবে স্বীকার করেন না। তবে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে তারা মাঝে মাঝে অংশ নেন বলে জানান তিনি।
সুমন ভূঁইয়ার ভাষ্য, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঘটনার বিস্তারিত এখনো জানতে পারেননি।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় শ্রমিকরা থাকেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক যুবককে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিল, নিহত ব্যক্তি কোন পক্ষের এবং ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি কতটা জড়িত—এসব বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত করছে।

