আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা কমে আসার পর লেবাননে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিজেদের ঘর ও এলাকায় ফিরে গেছেন।
তবে সংঘাতের ক্ষত এখনো গভীর হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি।মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, লেবাননে এখনো প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২২ হাজার মানুষ বিভিন্ন যৌথ আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। বাকিদের কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ থাকা ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঘরে ফিরতে শুরু করা কিছু মানুষ আবারও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে লেবাননের অভ্যন্তরেই ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাদের একটি বড় অংশ ফিরলেও নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন ও বেকা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ, সামরিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এসব কারণে বাড়িতে ফিরলেও অনেক পরিবারের পক্ষে স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইউএনএইচসিআরের সতর্কতা, সংঘাতের দৃশ্যমান তীব্রতা কমে গেলেও লেবাননের মানবিক সংকট এখনো শেষ হয়নি। বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন অনিশ্চিতই থেকে যেতে পারে।

