আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানে ভোরের নীরবতা ভেঙে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী টোকিওসহ দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। রোববার স্থানীয় সময় ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। আকস্মিক কম্পনে ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ঘটনায় ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি জেলার ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও এ ঘটনায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভোরের দিকে অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকায় হঠাৎ কম্পনে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেও বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। টোকিও থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী রেল নেটওয়ার্কের কিছু অংশে বিঘ্ন ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামত এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দপ্তর থেকে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে। দলটি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে শক্তিশালী কম্পনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত এবং ৩৬৪ জন আহত হন।
রোববারের ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

