আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নাটকীয় ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়েছেন টড ব্লাঞ্চ। মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে তার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সিনেটে ব্লাঞ্চের মনোনয়নের পক্ষে ভোট পড়ে ৫০টি, বিপক্ষে ৪৯টি। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের দুই সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মুরকোস্কি তার বিরোধিতা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির ভোট। তিনি ব্লাঞ্চের পক্ষে ভোট দেওয়ায় নিয়োগের পথ পরিষ্কার হয়।
ভোটের আগে ক্যাসিডি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ব্লাঞ্চের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ছিল না। ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যাসিডির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
এই অনুমোদনের ফলে ব্লাঞ্চকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন ও সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনেরও অবসান ঘটল। অন্যদিকে, সিনেটের সব ডেমোক্র্যাট সদস্যই তার নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
টড ব্লাঞ্চ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তার মনোনয়ন শুরু থেকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
গত এপ্রিল মাসে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার পর ব্লাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব নেন। এরপর কয়েক মাস অন্তর্বর্তীকালীনভাবে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার সিনেটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি পূর্ণাঙ্গ অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
এক ভোটের ব্যবধানে পাওয়া এই অনুমোদন শুধু ব্লাঞ্চের নিয়োগই নিশ্চিত করেনি; একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের নেতৃত্বে তার আস্থাভাজন একজন আইনজীবীর অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছে।

