আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে নিষিদ্ধঘোষিত ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ৩২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) নাইন এলমস এলাকায় অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অনেকের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। আমি ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।’
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৩২৫ জনের মধ্যে ৩২০ জনকে সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে সংগঠনটির সমর্থনে বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
এদিকে, সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট। সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ আপিলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারী হাততালি দেন এবং ‘মুক্ত, মুক্ত ফিলিস্তিন’ স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মকর্তারা তাঁদের বহন করে ভ্যানে তোলেন।
বিক্ষোভে অংশ নিতে কামব্রিয়া থেকে এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ৭৫ বছর বয়সী আইনজীবী চার্লস অ্যালিসন। তিনি বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যে নাগরিক অধিকার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
অ্যালিসন আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা বিক্ষোভের প্রভাবের বাইরে থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। পরে তাঁকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী ডেভিড বোল্ডেন ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক আইন’ বলে অভিহিত করেছেন। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভের সমন্বয়কারী সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারসহ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। সংগঠনটি এ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে এ-সংক্রান্ত ঘটনায় ৩ হাজার ৬৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর সঙ্গে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বাইরে গ্রেপ্তার হওয়া ১৩৪ জন এবং শনিবারের ৩২৫ জনকে যোগ করলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৯ জনে।
এদিকে, গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে। সংগঠনটি ফিলিস্তিন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অন্যায় এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে মন্তব্য করেছে।

