আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান ও ওমান যখন গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি, ঠিক তখনই ওমানকে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ওমান কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালানো হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এমন বাস্তবতায় ইরান ও ওমান প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশ একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অর্থাৎ কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একটি উদ্যোগ যখন এগোচ্ছে, তখন ট্রাম্পের সামরিক হুমকি সেই প্রক্রিয়াকে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ইরানের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের দাবি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস—আইআরজিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরাসরি গোপন যোগাযোগের পথ বা ‘ব্যাকচ্যানেল’ চালু হয়েছে। তবে এই যোগাযোগ থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার কোনো তাগিদ তাঁর নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আইআরজিসি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তারা ‘ভালো পোকার খেলোয়াড়’, তবে একই সঙ্গে দাবি করেন যে বাহিনীটির সদস্যরা যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছেন। সংঘাতের অবসানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও তিনি দেননি।
কূটনীতি নাকি সামরিক চাপ?
ট্রাম্পের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে একদিকে ইরানের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের পথ খোলার দাবি, অন্যদিকে ওমানকে প্রকাশ্য সামরিক হুমকি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওমানের কূটনৈতিক ভূমিকা, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা। এ অবস্থায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি সেই প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি আশঙ্কাও সামনে এনেছে কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোনোর বদলে যদি সামরিক চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

