স্পোর্টস ডেস্ক:
বিদায়ী ম্যাচটাও নিজের মতো করেই রাঙালেন লিওনেল মেসি। গোল করলেন, সতীর্থদের দিয়ে গোলও করালেন। আর তাতেই বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘরের মাঠে স্মরণীয় এক জয় উপহার দিল আর্জেন্টিনা। বুয়েন্স আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে হাজির প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকও পেলেন আবেগঘন এক বিদায়ী মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ।
বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচে পুরো সময়জুড়েই আর্জেন্টিনার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বল দখলে প্রায় ৬৫ শতাংশ এগিয়ে থাকা লিওনেল স্কালোনির দল গোলমুখে নেয় ১২টি শট, যার মধ্যে বড় সুযোগ ছিল আটটি। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর মেসির নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ৩১ মিনিট পর মাঠে নামেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করেন মেসি। তবে বেনিনের গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন।
এরপর আসে মেসিকে ঘিরে বিশেষ বিদায়ী আয়োজন। ম্যাচের ১০তম মিনিটে এক মিনিটের বেশি সময়ের জন্য খেলা থামিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে বিদায় জানাতে। পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম তখন করতালি, আতশবাজি আর ‘মেসি’ ধ্বনিতে মুখর। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসিকেও দেখা যায় দর্শকদের ভালোবাসায় সাড়া দিতে।
২৪তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রস থেকে স্লাইড করে শট নেন মেসি। বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। দুই মিনিট পর তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ৩২তম মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে ভলি করেন মেসি, কিন্তু এবারও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেনিনও কিছুটা আক্রমণে ওঠে। ৪৩তম মিনিটে জুনিয়র ওলাইতানের দূরপাল্লার শট নিচের বাঁ কোণ থেকে রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল পেয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ, কিন্তু তাঁর শটও আটকে দেন বেনিনের গোলরক্ষক।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে পাওয়া বল ভলিতে জালে পাঠান নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির পা থেকে আসা বলেই আসে ম্যাচের প্রথম গোল।
এরপর ৬১তম মিনিটে আবারও মেসির নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পান নিকো পাজ। গোলমুখে ঘুরে বাঁকানো শটে বল বেনিনের জালে পাঠান তিনি। নিখুঁত ওই শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭১তম মিনিটে নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান মেসি। বেনিনের বক্সে অগাস্তিন গিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এটি তাঁর ১২৬তম গোল।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন মেসি। তাঁর শট বারে লেগে ফিরে আসায় আর ব্যবধান বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
তবে স্কোরলাইন ছাপিয়ে এ ম্যাচের মূল গল্প হয়ে থাকল মেসির বিদায়। নিজের ঘরের মাঠে হাজারো সমর্থকের সামনে গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লিখে মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

